মানব উন্নয়নে বা বিকাশে অবদান রাখা, প্রবৃদ্ধি অর্জন করা, বিকশিত হওয়া এবং সার্বিক অশুদ্ধতা দূর করে উৎকর্ষ সাধন করা। কোনো কিছুকে অনাকাঙ্ক্ষিত বা ক্ষতিকর অংশ থেকে মুক্ত করে খাঁটি করা, যার ফলে তার মধ্যে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিকাশ ও কল্যাণ সাধিত হয়। এটি একই সাথে অভ্যন্তরীণ সততা, সম্পদ বা আত্মার উন্নয়ন এবং বিকাশ লাভ করাকে নির্দেশ করে। কুরআনে এই রুট থেকে আসা শব্দগুলো কেবল অর্থের লেনদেন বা বস্তুগত প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা মানুষ, সমাজ এবং আত্মার পর্যায়ক্রমিক গুণগত রূপান্তর ও পরিশোধনের নির্দেশ করে।
وَ = এবং | ءَاتُوا = নিয়ে আসো | ٱلزَّكَوٰةَ = পরিশোধন
• ২:৪৩ > "এবং পরিশোধন নিয়ে আসো।”
• ৯১:৯ > "অবশ্যই সফল হয়েছে যে তাকে পরিশোধিত করেছে।”
• ৮৭:১৪ > “অবশ্যই সফল হয়েছে যে পরিশোধিত হয়েছে।”
• ৩৫:১৮ > “এবং যে পরিশোধিত হয়, বস্তুত সে পরিশোধিত হয় তার নিজের জন্য।”
• ৯২:১৮ > “যে তার সম্পদ পৌঁছে দেয় সে পরিশোধিত হয়।”
• ১৮:১৯ > “সুতরাং সে দেখুক কোন খাদ্য অধিকতর পরিশোধিত।”
একই মূলকে এক জায়গায় “পবিত্র” এবং অন্য জায়গায় “পরিশুদ্ধ” না করে একটি স্থির বাংলা শব্দমূল পরিশোধন ধরে রাখা সম্ভব। কুরআনে ط ه ر এবং ز ك و-কে একই বাংলা শব্দে অনুবাদ করলে দুইটি ভিন্ন শব্দমূলের আভিধানিক পার্থক্য হারিয়ে যায়। বিশেষ করে কুরআনের ৯:১০৩ এ এই দুটি শব্দ পাশাপাশি এসেছে: تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا।
অতএব শব্দমূল আলাদা রাখার নীতি অনুসারে:
• ط ه ر-এর ক্ষেত্রে: পবিত্র
• ز ك و-এর ক্ষেত্রে: পরিশোধিত
এখানে “পরিশোধন” নির্বাচন করার মূল কারণ হলো, এটি এমন একটি বাংলা শব্দ, যার মধ্যে কোনো কিছুকে সংশোধন, বিশুদ্ধ বা উপযুক্ত অবস্থায় এনে উন্নয়ন সাধন ধারণা প্রকাশ করা যায়, যা কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যামূলক পরিভাষা ছাড়াই মূল আরবির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি স্বতন্ত্র বাংলা শব্দমূল ব্যবহার করা যায়।
কুরআনে আসা পরীক্ষিত সকল আয়াতসমূহ (মোট ৫৯ বার):
(২:৪৩, ৮৩, ১১০, ১২৯, ১৫১, ১৭৪, ১৭৭, ২৩২, ২৭৭) (৩:৭৭, ১৬৪) (৪:৪৯ [২ বার], ৭৭, ১৬২) (৫:১২, ৫৫) (৭:১৫৬) (৯:৫, ১১, ১৮, ৭১, ১০৩) (১৮:১৯, ৭৪, ৮১) (১৯:১৩, ১৯, ৩১, ৫৫) (২০:৭৬) (২১:৭৩) (২২:৪১, ৭৮) (২৩:৪) (২৪:২১ [২ বার], ২৮, ৩০, ৩৭, ৫৬) (২৭:৩) (৩০:৩৯) (৩১:৪) (৩৩:৩৩) (৩৫:১৮ [২ বার]) (৪১:৭) (৫৩:৩২) (৫৮:১৩) (৬২:২) (৭৩:২০) (৭৯:১৮) (৮০:৩, ৭) (৮৭:১৪) (৯১:৯) (৯২:১৮) (৯৮:৫)।