অনুবাদ হলো এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় বার্তা পৌঁছানোর একটি বিশ্বস্ত মাধ্যম। কিন্তু বিশেষ করে পবিত্র কুরআনের অনুবাদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ অনুবাদক মূল শব্দের আক্ষরিক ও নিখুঁত অনুবাদের বদলে নিজস্ব ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা অতিরিক্ত ধারণা যুক্ত করেন। এতে মূল বার্তার বিশুদ্ধতা ও আনুগত্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কুরআনের প্রতিটি আরবি শব্দ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং গাণিতিকভাবে নিখুঁত। অনুবাদকের মূল কাজ হলো প্রতিটি শব্দের মূল রুট ও অর্থের ওপর ভিত্তি করে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ নির্বাচন করা। যখনই কোনো অনুবাদে অতিরিক্ত ব্যাখ্যামূলক শব্দ যোগ করা হয়, তখন পাঠকের কাছে মূল বার্তাটি পৌঁছানোর বদলে অনুবাদকের নিজস্ব মতামতটিই বড় হয়ে ওঠে।
একটি নির্দিষ্ট রুটের অধীন গঠিত শব্দগুলোর জন্য সহজ ও সর্বজনীন বাংলা শব্দ নির্বাচন করা প্রয়োজন, যা সব ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য রক্ষা করে। এতে অনুবাদের ধারাবাহিকতা ও বিশ্বস্ততা বজায় থাকে এবং কুরআনের বাণীর প্রকৃত গাম্ভীর্য প্রকাশ পায়।
ব্যাখ্যার উর্ধ্বে উঠে বিশুদ্ধ শব্দে শব্দে অনুবাদের মাধ্যমে আনুগত্য প্রকাশ করাই হলো কুরআন গবেষণার প্রাথমিক ও মৌলিক নিয়ম। এটি পাঠকদের নিজস্ব চিন্তাভাবনার সুযোগ দেয় এবং যেকোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব থেকে অনুবাদকে মুক্ত রাখে।
“এই গবেষণাটি ভাষার বিশুদ্ধতা ও অনুবাদের বিশ্বস্ততা রক্ষার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। গঠনমূলক আলোচনা ও মতামত সাদরে আমন্ত্রিত।”